/

বাংলাদেশের রোজার বাজার ইন্দোনেশিয়া, ভারত, অস্ট্রেলিয়ার মতো ৩১ দেশের দখলে

প্রকাশিতঃ ২:০৩ অপরাহ্ণ | মে ২৪, ২০১৮

রোজা সামনে রেখে গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ছয়টি নিত্যপণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা।
ছয়টি পণ্য হলো চিনি, ভোজ্যতেল, খেজুর, মটর, মসুর ও ছোলা।

বাজারে এখন খুচরা বিক্রেতারা দোকানে দোকানে সাজিয়ে রেখেছেন ছোলা, খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ছয়টি ভোগ্যপণ্য। ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকেরই হয়তো ধারণা নেই, দোকানে দোকানে সাজিয়ে রাখা এসব পণ্য বহু নদী, সাগর পাড়ি দিয়ে আনা হয়েছে হাজার হাজার মাইল দূরের নানা দেশ থেকে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পণ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রোজা উপলক্ষে এবার ছয়টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা হয়েছে বিশ্বের ৩১টি দেশ থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ পণ্য আমদানি করা হয়েছে ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ভারত, মালয়েশিয়া, প্যারাগুয়ে, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কানাডা থেকে।

এসব দেশ থেকে আনা ছয়টি পণ্য হলো চিনি, ভোজ্যতেল, খেজুর, মটর, মসুর ও ছোলা। গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই ছয়টি পণ্য আমদানিতে ৮ হাজার ২৬৭ কোটি টাকার সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা পরিশোধ করতে হয়েছে। পণ্যগুলো পরিমাণে ১৬ লাখ ১৮ হাজার ৬১৩ টন। এসব পণ্যের কোনো কোনোটি দেশে উৎপাদন হয় না, আবার কোনোটি উৎপাদন হলেও তা চাহিদার তুলনায় কম। ফলে কমবেশি আমদানি করেই চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

রোজার পণ্যে সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্য দেখা যায় খেজুরে। ব্যবসায়ীরা এবার খেজুর এনেছেন বিপুল পরিমাণে। চার মাসেই চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার টন খেজুর। এ জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪০ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। খেজুর আমদানিতে ব্যবসায়ীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, আলজেরিয়া, ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ওমানসহ ১৭টি দেশ।

খেজুর আমদানিকারক ফারুক ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার ফারুক আহমেদ গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, দেশের বাজারে খেজুরের ক্রেতাদের একেকজনের চাহিদা একেক রকম। সে অনুযায়ী একেক দেশ থেকে একেক মানের খেজুর আমদানি করতে হয়। যেমন, গরিব মানুষের জন্য খেজুর আনা হচ্ছে ইরাক থেকে। সবচেয়ে বেশি দামি খেজুর আনা হয় ইরান থেকে।

খেজুরের মতোই ইফতারিতে রোজাদারদের পছন্দের পণ্য ছোলা। রোজা উপলক্ষে যত ছোলা আমদানি হয়েছে তার ৯২ শতাংশই সাড়ে ১১ হাজার কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে আনা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। ছোলা উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ ভারত থেকেও আমদানি হয়েছে, তবে তা সামান্য পরিমাণে। এর বাইরে ইথিওপিয়া, মিয়ানমার, ভুটানসহ ৯টি দেশ থেকে ছোলা আমদানি হয়েছে। ছোলার জন্য ব্যয় হয়েছে ৮৩১ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।

রোজায় বেশি চলে এমন আরেকটি পণ্য মটর ডাল। বাংলাদেশে মটর ডাল রপ্তানিতে এককভাবে শীর্ষদেশ ছিল কানাডা। গত বছর কানাডা থেকে ৮৮ শতাংশ মটর ডাল আমদানি করা হয়েছিল, যা এবার এক শতাংশেরও কম। কানাডার মটর ডালের এই বাজার দখল করেছে রাশিয়া, ইউক্রেন ও অস্ট্রেলিয়া। শুধু রাশিয়া থেকেই এবার মটর ডাল আমদানি হয়েছে ৩৫ হাজার ৪২২ টন, যা মোট আমদানির ৬৬ শতাংশ। মটর ডাল আমদানিতে মোট ব্যয় হয়েছে ২৫৯ কোটি টাকা।

ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন ও পামতেল পুরোটাই আমদানিনির্ভর। পামতেল আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রথম পছন্দ ইন্দোনেশিয়া। গত চার মাসে আমদানি হওয়া পামতেলের ৮৫ শতাংশই এসেছে এই দেশ থেকে। আর মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ১৪ শতাংশ।

ফুটবলে যেমন সমর্থনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দুই ভাগ হয়ে যায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায়, তেমনি এখানকার সয়াবিনের বাজার দখলে লাতিন আমেরিকার এই দুটি দেশের দ্বৈরথ দৃশ্যমান। এবার আমদানি হওয়া সয়াবিনের ৫১ শতাংশ এসেছে আর্জেন্টিনা থেকে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৭৭ শতাংশ। এবার ব্রাজিল থেকে এসেছে মোট আমদানির ২৪ শতাংশ। এই দুই দেশের সঙ্গে অবশ্য গত দুই বছর ধরে যুক্ত হয়েছে প্যারাগুয়ে।

তবে অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে ব্যবসায়ীদের নির্ভরতা এককভাবে ব্রাজিলের ওপর। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন এবারে ভারত থেকে প্রস্তুত চিনি আমদানি না করলে বাংলাদেশে চিনির শতভাগ বাজার থাকত ব্রাজিলের হাতে।

সূত্রঃ প্রথম আলো