/

বৃক্ষমানব!

প্রকাশিতঃ 2:28 pm | May 24, 2018

স্বাধীনতা দিবস থেকে বিজয় দিবস, পরিবেশ দিবস থেকে পরিবেশ সম্মেলন। সবখানেই হাজির ‘বৃক্ষমানব’ দীপক চন্দ্র দাস। শরীর সাজানো বৃক্ষের সবুজ রঙে আর গাছের পাতায়। কখনো শরীরে, কখনো শরীরে আঁটা গাছের পাতায় লেখা ‘গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই’, ‘গ্রিনহাউস গ্যাস কমিয়ে ধরিত্রীকে বাঁচাই’, ‘গাছ লাগান, নিজে বাঁচুন-অপরকে বাঁচান’।
পরিবেশ রক্ষায় মানুষকে সচেতন করতে এক যুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছেন ময়মনসিংহের সদর উপজেলার বয়রা গ্রামের যুবক দীপক (৩৬)। মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তিনি নিজেও নিয়মিত গাছ লাগান। কোনো উপলক্ষ পেলেই অন্যকে উপহার হিসেবে দেন গাছের চারা। এমনকি নিজের এলাকায় কোনো শিশু জন্ম নিলে গাছের চারা উপহার নিয়ে হাজির হন সেই বাড়িতে।
গত মাসে ময়মনসিংহে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দীপককে ‘বৃক্ষমানব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মুস্তাকীম বিল্লাহ ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মঈনুদ্দিন খান। ওই সময় একটি সনদ ও ক্রেস্টও দেওয়া হয় তাঁকে।
ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বয়রা গ্রামের ভীরেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে দীপক। পড়াশোনা করেছেন এসএসসি পর্যন্ত। দারিদ্র্যের কারণে আর এগোয়নি তাঁর বিদ্যা অর্জন। এরপর এখানে-ওখানে টুকটাক কাজ করেছেন। এখন গৃহপালিত পশু চরিয়েই দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
কয়েক দিন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে কথা হয় দীপকের সঙ্গে। তিনি জানান, ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে জাতিসংঘ আয়োজিত বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ তাঁর মনে দাগ কাটে। তবে আরও ১০ বছর পর ২০০২ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ শুরু করেন তিনি। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় দূরে সচরাচর যেতে পারেন না। ময়মনসিংহের আশপাশে বৃক্ষমেলা হলে সেখানে যান নিয়মিত। তবে একুশে বইমেলা, রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাণিজ্য মেলা, বৃক্ষমেলা এবং জলবায়ু সম্মেলনেও বৃক্ষ সেজে সচেতনতার বাণী শুনিয়েছেন। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে থাইল্যান্ডের রাজকুমারী গাইবান্ধার চর সফরকালে বৃক্ষ সেজে তাঁর সামনে হাজির হয়েছিলেন তিনি।
দীপক জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই তিনি শুরু করেছিলেন পরিবেশ রক্ষার কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই এক যুগ ধরে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তাঁকে। তাঁদের মধ্যে ক্যাম্পাসের সুমন ও ময়মনসিংহের উত্তমের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ তিনি। এর কারণ, সুমন ও উত্তম নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে দীপককে সাজিয়ে দেন বৃক্ষরূপে। তাঁর শরীরে ও গাছের পাতায় চিত্রাঙ্কন করে দেন তাঁরা।
আর্থিক সহযোগিতা পেলে একটি গাছের নার্সারি করার স্বপ্ন দেখেন দীপক।
সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে কথা বলার সময় একটি মন্তব্যের বই দেখালেন দীপক।বইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সাবেক ডিন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক অধ্যাপক এম এ সাত্তারের মন্তব্য, ‘পরিবেশ সচেতনতায় দীপক যে সামাজিক উদ্যোগ নিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। গাছ সেজে উন্নত পরিবেশ গড়ার যে লক্ষ্য তিনি নিয়েছেন, তা জাতীয় স্বীকৃতির দাবিদার।’

সূত্রঃ প্রথম আলো